দেখার কেউ নেই

ময়মনসিংহ বন বিভাগের ভালুকা রেঞ্জে কাদিগড় বিটে চলছে বনভূমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মানের প্রতিযোগিতা

ওমর ফারুক তালুকদার, ভালুকাঃ
ওমর ফারুক তালুকদার, ভালুকাঃ
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২২ ২০:৫৯:৩৩

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের অধিন কাদিগড় বিটে পাড়াগাঁও মৌজার বন গেজেট ভুক্ত ৫৭১ নং দাগে মাসুদ নামের এক ব্যক্তি ঘর নির্মান করছে, স্থানীয়দের দাবী বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই কাজ করছে মাসুদ।

অপরদিকে একই মৌজার ৫৭১ দাগেই আপন দুই সহোদর  সেলিম ও আলিম পৃথক দুটি দালান ঘর নির্মান করছে এখানেও বিট কর্মকর্তার যোগ শাজস আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আবার একই মৌজার বন গেজেট ভুক্ত ৫৬৪ নং দাগে এমদাদুল হক ও ইন্নছ আলী মার্কেট নির্মানের নামে বনভুমি দখল করছে। এবং কাদিগড় মৌজার ৩১০ নং দাগে সুরুজ নামের আরেক ব্যক্তিও মার্কেট নির্মানের নামে বনভুমি জবর দখল করছে। যা দেখেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বিট কর্মকর্তা।

জানা গেছে ফিরুজ আল আমিন কাদিগড় বিট অফিসে যোগদান করার পর থেকে কাদিগড় বিটে অবাদে বনভুমি জবর দখল ও সরকারী শাল গজারী গাছ নিধন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে বিট কর্মকর্তার সাথে যোগশাজস করে একদল দুবৃত্ত কাদিগড় জাতীয় উদ্যান থেকে গজারী গাছ কেটে বিক্রি করে বন উজার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, কাদিগড় বিট কর্মকর্তা ফিরুজ আল আমিন মাত্র কিছু  দিনেই লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে গেছেন, উনি এখানে আসার পর থেকেই অবাধে গজারী গাছ নিধন সহ বন ভুমির জমি দখল করে অবাদে গড়ে উঠছে অসংখ্য বাড়ী ঘর ও দোকান পাট এবং শিল্প কারখানা। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন বিট কর্মকর্তা ফিরুজ আল আমিন, স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন বলেন, রক্ষক যখন বক্ষক হয় তখন কি অবস্থা হয় আপনারাই ভাবুন।

আবার অনেকের দাবী ফিরুজ আল আমিন সরকারী সম্পদ রক্ষা করতে আসেনি, তিনি এসেছেন নিজের আখের গুছাতে। কয়েকজন ভুক্তভুগীর দাবী  কাদিগড় বিটের অধিনে যে কোন স্থানে কোন ঘর নির্মান করতে চাইলে বিট কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে তার পর ঘর করতে হয়। কেও প্রতিবাদ করলে তার নামে বন আইনে ৫টি মামলা দেয়ার হুমকি প্রদান করেন, তাই মামলার ভয়ে এলাকার কেও সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারেনা।  

আমরা বনভুমি রক্ষার জন্য বিট কর্মকর্তাকে অনেকবার বুঝিয়েছি কিন্তু টাকা দেখলে তার মাথা ঠিক থাকেনা। বিট কর্মকর্তা ফিরুজ আল আমিনের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। ঘুষখোর ও দূর্নীতিবাজ এই বিট কর্মকর্তার অপসারন দাবী করেন এলাকার সচেতন মহল।

জাতীয় দৈনিক আজকের সংবাদ প্রতিকার প্রতিনিধি এত সব দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা তাকে উৎকোচের প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাব না রাখায় সে সাংবাদিকের নামে মামলা দেয়া সহ দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা রইস উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।