প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা
রাজউকের বিরুদ্ধে এস এ পরিবহনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ

মূল অধিগ্রহণকৃত জায়গার নকশা লুকিয়ে রেখে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দেশের খ্যাতমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস এ গ্রুপ অব কোম্পানিজের ক্রয়কৃত ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরাবররে এক লিখিত আবেদনে এস এ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ তথা এসএ টিভি, এস এ পরিবহন (প্রা:) লিমিটেড সহ ৮টি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। লিখিত অভিযোগে মতিঝিলস্থ কমলাপুরে তাদের ক্রয়কৃত ৫১, ৫৩ শতাংশ ভূমির উপর স্থাপিত ওয়ার্কশপ টার্মিনাল রাজউক কর্তৃক এল এ কেসের অজুহাতে জবর দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয় এস এ পরিবহনের ক্রয়কৃত (দলিল নং-১৪৬২, ১৪৬৫) সম্পত্তির সিএস মূলে মালিক ছিলেন হেমচন্দ্র গং। সিএস খতিয়ানে এই দাগে মোট জমির পরিমান ৯.৭৬ একর। উক্ত ভূমি হতে হিস্যানুযায়ী ১.৬২৬৭ একর ভূমির পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন দলিল দাতাগণ, এবং তারা দখলকার থাকা অবস্থায় তৎকালিন এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৫ সনে এলএ কেস নং-১/৮৫-৮৬ এবং এলএ কেস নং-২১/৯০-৯১ মূলে মতিঝিল এক্সটেনশনের জন্য মাত্র ১.২৮ একর ভূমি জেলা প্রশাসন কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। দলিল দাতাগণের পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ১.৬২৬৭ একর ভূমি হতে ১.২৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের পর অবশিষ্ট ৩৪.৬৭ শতাংশ এবং অপরাপর অংশীদারগণের ১৭ শতাংশসহ মোট ৫১.৫৩ শতাংশ নিষ্কন্টক ভুমি তিনি ক্রয় করেন। ঐ সময় হতেই দলিল দাতাগণ উল্লেখিত ভূমির খাজনা-খারিজ সহ নানাবিধ ভূমি উন্নয়ন কর সরকারি কোষাগারে প্রদান করে আসছেন। উক্ত ৯.৭৬ একর জমি হতে ১.২৮ একর মাত্র অধিগ্রহণ করা হয়েছিলো এটা যেমন সত্য আবার অধিগ্রহণের বাইরে ৫১.৫৩ শতাংশ নিষ্কন্টক ভূমি তিনি ক্রয় করেছি এটাও সত্য। তার ক্রয়কৃত ৫১.৫৩ শতাংশ জমি কোনোভাবেই রাজউকের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি নয়। রাজউক এখানে তাদের মূল অধিগ্রহণকৃত জায়গার নকশা লুকিয়ে রেখে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২৩ সালে রাজউকের তৎকালিন চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী আসার পর তিনি অত্র এলাকার সকলের কাগজ-পত্র যাচাই বাছাইয়ের নামে, যেখানে তাদের অধিগ্রহণকৃত জায়গা অবস্থিত তাদের সাথে আঁতাত করে তাদেরকে অনাপত্তি দিয়ে এসএ পরিবহনের ওয়ার্কশপ টার্মিনালে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। তার এই অনৈতিক তৎপরতা দেখে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-১০৭৪৬/২১) দায়ের করা হয়। মূলত: রিট পিটিশনে মালিকানা নির্ণয়ের পথ না থাকায়, রিট পিটিশনটি টেক-ব্যাক করে জজকোর্টে মালিকানা নির্ণয়ের জন্য মামলা দায়ের করেন যার নং-৪৭৭/২০২৪, তাং-০২/০৯/২০২৪। উক্ত মামলায় জজকোর্ট রাজউককে শো-কজ করে বার বার তাদের অধিগ্রহণের স্বপক্ষে প্রমাণাদী উপস্থাপনের জন্য তাগিদ দিলেও প্রমাণাদী উপস্থাপন না করে কালক্ষেপন করে, ফলে জজকোর্ট বাদী পক্ষকে অযথা হয়রানির বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ইতিমধ্যে বাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কতিপয় কর্মকর্তাগণ রাজউকের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ২৪৫ দিন অতিবাহিত হলেও তারা জজকোর্টে APPEAR না করে, তথ্য গোপন করে মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রকল্প চলমান দেখিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। মূলত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও মালিকানা নির্ণয়ের মামলা জজকোর্টে চলমান রয়েছে। রাজউক উক্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের দোহাই দিয়ে সম্প্রতি মতিঝিলের কমলাপুরস্থ এস এ পরিবহনের ওয়ার্কশপ টার্মিনালের গাড়ি রেকার দিয়ে তুলে নিয়ে যায় ও সেখানে থাকা সিকিউরিটিদের অপদস্ত করে জোরপূর্বক বের করে দেয়।
এরই প্রেক্ষিতে সালাউদ্দিন আহমেদ তার নিষ্কন্টক ভূমিতে রাজউকের অনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার জন্য এবং ওয়ার্কশপ টার্মিনাল তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
