১৪ বছরের চাকরি জীবনে অঢেল সম্পদশালী হলেন কোন পথে

স্বৈরাচার লীগ সরকারের পতন হলেও এখন বহাল তবিয়তে ছাত্রলীগ নেতা নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল 

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৭:৩০:১০  আপডেট :  জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৭:৩৩:৫৪

ঢাকা জেলারেজিস্ট্রারের অধিনে নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার পতিত লীগ সরকারের দোসর দুনীতি পরায়ন নাজমুল হাসানের ঘুষ দুনীতি, কমিশন বানিজ্যের কারণে অতিষ্ঠ সাধারণ দলিল লেখকগন ও দাঁতা গ্রহীতারা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোগান্তির আরেক নাম দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল। টাকার জন্য মরিয়া হয়ে অনিয়ম দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন দের্দাচ্ছে।

সুত্রে জানা জায়, বিগত স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে ছাত্র লীগ করার সুবাদে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বনে যাওয়া সাবরেজিস্ট্রার পদে চাকরি হাতিয়ে নেন ছাত্র লীগের নেতা নাজমুল হাসান। সাবরেজিস্ট্রার পদে চাকরি হাতিয়ে নিয়ে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নাজমুল হাসানের। বনে যান রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।

সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল ও তার সিন্ডিকেট বাহীনিরা সেবা গ্রহণীয়তা দের দলিলের ধরন বুঝে গুনতে হয় মোটা অংকের ঘুষের টাকা। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সুবিশাল সিন্ডিকেট বাহীনি। যখন যেখানে কর্মরত থাকেন সেখানেই দুর্নিতীর সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ দলিল লেখক দেরকে জিম্মি করে নিরবে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন নাজমুল। এক কথায় হয়রানির আরেক নাম সাবরেজিস্ট্রার নবাবগঞ্জ উপজেলা  সাবরেজিস্টার অফিস। সেখানে সেবা নিতে আশা দাতা গ্রহীতারা হিমসিম খাচ্ছেন সাবরেজিস্ট্রারের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যর কারনে। তার নিজ এলাকাবাসী মানিক গঞ্জের, সাটুরীয়ার এলাকার একাধিক বাসিন্দারা আজকের সংবাদ কে বলেন তাঁর কাছে আছে নাকি আলাউদ্দীন চেরাগ। তা-না হলে এত অল্প সময়ে মধ্যে এত সম্পদশালী হলেন কোন পথে সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল।

সুত্রে যানা জায়, নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গরে তুলেছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল। বিগত সময়ে টাংগাইল জেলার ঘাটাইলে সাবরেজিস্ট্রার পদে কর্মরত থাকা কালিন ঘুষ বানিজ্য মহোৎসব চালিয়েছেন তিনি।

বিগত সময়ের জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে বর্তমান আই আর ও মাহাফুজুর রহমান এর নাম ভঙ্গীয়ে দাপটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো বহাল তরিয়াতে। নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিসের ঘুষের রাজত্ব চলছে?  উক্ত  অফিসে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তিনি। সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে আছেন সাবেক বাড্ডার কেরানি রাসেল। সাবরেজিস্ট্রার ও দুনীতিবাজ কেরানি রাসেলের নেতৃত্বেগড়ে তোলা অসাধু দলিল লেখক ও তাদের  সিন্ডিকেট বাহিনীর  দায়িত্ব দিয়ে  চলছে রমরমা ঘুষ বানিজ্য।

খোঁজ নিয়ে আরও যানা জায়, আইজি আর অফিসের আই আর ও মতিউর রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে তছনছ অনিয়ম দুনীতির চাম্পীয়ান খ্যাত সাবরেজিস্ট্রার নাজমুলের। আই আর ও মতিউরের ছত্রছায়ায় থেকে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশেয়।

সুত্র মতে ফরিদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকা কালিন জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আই আর ও মতিউর। সেই সুবাদে এই দুই আই আর ও সাথে গরে তুলেছিলেন সু সম্পর্ক। লীগের দোসর সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল আই আর ও মতিউর রহমান ও আই আরও মাহাফুজুর রহমানে কাছের লোক পরিচয় দিয়ে সাধারণ কর্মকর্তাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে নিজেকে জাহির করছেন ক্ষমতার দাপট। লীগ সরকার পতন হলেও এখন বহাল তরিয়াতে আছেন সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল।

পুলিশ প্রশাসনের উদ্ধতন কর্মকর্তা ও দুদকের কর্মকর্তা দের সাথে রয়েছে নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বলে সাধারণ সাবরেজিস্ট্রার দের নিকট নিজেকে জাহির করেন বলে প্রচার আছে। বিগত সময়ে ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রা হিসেবে কর্মরত থাকা কালিন মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকী দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। সেই সময়ে তাঁর দুনীতি ঘুষ বানিজ্যর অভিযোগ এনে  আইন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ দিলেও লীগের দাপট দেখিয়ে ও তাঁর অবৈধ টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে এই দলিলের  রশিদ নং- ৬২৯৬, দলিল নং -৬২৭৬, দলিল নং -৬৪২৯ এই দলিলে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল। 

১৪ বছরের চাকরি জীবনে এত সম্পদশালী হলেন কোন পথে সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল। একজন সাব-রেজিস্ট্রারের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ভাতাসহ মোট আয় আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেই হিসাবে ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ১৪ বছরের চাকরি জীবনে সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের মোট বৈধ বেতন-ভাতা, টিএ/ডিএসহ সরকারি আয় আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে নবাবগঞ্জ  কর্মরত এই কর্মকর্তা অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় হলেও তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডির একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, সন্তানদের নামী ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়ান এবং একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। তার ঘোষিত আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি তদন্তের দাবি উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু মানিকগঞ্জ জেলাতেই তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক মূল্য তার ১৪ বছরের বৈধ আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু নিজের নামেই নয়, স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য আত্মীয়ের নামেও জমি ও অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করেছেন। শ্বশুরবাড়ি এলাকায় প্রায় তিন একর জমিতে একটি মাছের ঘের রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে কয়েক একর জমি ক্রয়ের তথ্যও মিলেছে। মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি ভবনের নবম তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আরও একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সেগুলো বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট দুূূদক, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সাধারণ কর্মকর্তারা।