প্রধান বন সংরক্ষকের তদন্ত নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন
দীর্ষ ১০ মাসেও ডিএফও নির্মল কুমার পালের বিরুদ্ধে ব্লাকমেইলিং ও টেন্ডারে স্বজন প্রীতির অভিযোগ তদন্ত করেননি খুলনার বন সংরক্ষক

বন বিভাগের দুর্নীতিতে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গকারী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর নির্মল কুমার পাল দীর্ঘ ১১ বছর খুলনাতে থেকে সীমাহীন লুটপাট চালিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করলেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগ খুলনার ডিএফও হিসেবেই তিনি প্রায় ১ যুগ সময়কাল অধিষ্ঠিত আছেন। যা ইতোপূর্বকার কোন কর্মকর্তাই এত দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অধিষ্ঠিত থাকার সুযোগ পায়নি। খুলনাতে দায়িত্বে নিয়োজিত হবার পরই হেলাল এমপি ও ননী গোপাল এমপির আস্থাভাজনে পরিণত হন তিনি। বিগত সরকার আমলে প্রভাবশালী ঐ ২ এমপি’র ঘনিষ্ঠজন পরিচয় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি চালিয়ে দেদারসে অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানীর উত্তরায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ফ্ল্যাট, খুলনার দোলখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ২ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪ তলা বাড়ি নির্মাণসহ নিকট জনের নামে ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকা গচ্ছিত রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় খুলনার বয়রাতে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে অফিস নির্মাণের জন্য গত ৩০-৭-২০২৪ তারিখে ইজিপি’র মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করেন ডিএফও নির্মল কুমার পাল। ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিলেও সমজোতার মাধ্যমে অফিসিয়াল গোপন রেট সংগ্রহকারী ৫টি প্রতিষ্ঠান একই দর দাখিল করেন। অপর ৩টি প্রতিষ্ঠান গোপন রেট সংগ্রহ করতে না পারায় তাদের দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডিএফও নির্মল ২০ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান রফিক ট্রেডার্সকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য উক্ত প্রকল্পের পরিচালকের অনুমোদন না নিয়ে তার দপ্তরে কোন তথ্য না পাঠিয়ে সরাসরি প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তর থেকে ব্লাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে হাতে হাতে কার্যাদেশ প্রদানের অনুমোদন করিয়ে নেন। জানা যায় উক্ত রফিক ট্রেডার্সের মালিক যুবলীগ নেতা ও শেখ হেলাল এমপি’র বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। ৫ আগস্ট’২৪ এর পর উক্ত ঠিকাদার পলাতক থাকায় ভবন নির্মাণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে অন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সম্প্রীতি নির্মল কুমার পালকে চলতি অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময় প্রদত্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেবার প্রেক্ষিতে ঐ সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন হয়। পাশাপাশি ব্লাবমেইলিং করে প্রধান বন সংরক্ষক দপ্তর থেকে কার্যাদেশের অনুমোদন সংগ্রহ করায় এতদ্বসংক্রান্তে গত ২৪-০৯-২০২৪ তারিখে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তর থেকে পত্র নং- ৯৪০ মোতাবেক নির্মলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে জরুরিভাবে প্রতিবেদন দেবার জন্য বন সংরক্ষক, খুলনা সার্কেলকে নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘ ১০ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন না পাঠালে প্রধান বন সংরক্ষক দপ্তর থেকে গত ৩/৮/২০১৫ তারিখে পত্র নং- ৮৯৪ মোতাবেক পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো দীর্ঘ ১০ মাস তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া থেকে বিরত থাকায় প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে চলতি অর্থবর্ষে পুনরায় ভবন নির্মাণের জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে আবারও ডিএফও নির্মলকে ২০ পার্সেন্ট হিসেবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হলো।
উল্লেখ্য দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ডিএফও নির্মল কুমার পাল দীর্ঘ চাকুরী জীবনে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে রাজধানীর উত্তরায় ১৮ নং সেক্টরের উত্তরা প্রজেক্টে বাড়ি নং- ২০৫/সি, কুঞ্জলতা এপার্টমেন্টের ৬০২ নং ফ্ল্যাটটি ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় এবং খুলনার দোলখোলা বাজার সংলগ্ন বাড়িতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা সহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও নগদ টাকার মালিক হয়েছেন। এ নিয়েও তার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ করেছেন জনৈক ঠিকাদার লুতফর রহমান। যা বর্তমানে তদন্তাধীন। ভুক্তভোগীদের মতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ৭ কোটি টাকার দরপত্রটি সুষ্ঠুভাবে করতে শক্তিশালী দরপত্র কমিটি করা প্রয়োজন। নতুবা নির্মলকে ২০ পার্সেন্ট দিতে হলে নিম্নমানের ভবন হবার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।
