বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে দুদকের হানা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্লা রেজাইল করিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তে গতকাল দুদকের একটি টিম বন সংরক্ষক কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে দুদকের হানা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্লা রেজাইল করিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তে গতকাল দুদকের একটি টিম বন সংরক্ষক কার্যালয়ে অভিযান চালায়। দুদক চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক হিসেবে মোল্লা রেজাউল করিম যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ঘুষ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জনের বিষয়টি তারা তদন্তে মাঠে নেমেছেন এবং এতদ্বসংক্রান্তে বন সংরক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্র মতে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে।

সম্প্রতি ৯/১/২০২৫ তারিখ ৬ টি অফিস আদেশ মূলে ৭৬ জন কর্মচারীর বদলি বানিজ্য, এই বদলি বানিজ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। তাছাড়া অনেকের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে এবং অনেকের মেয়াদ উত্তীর্ন হলেও তাদের বদলি করে নাই, উক্ত কর্মচারীদের সাথে মাসিক চুক্তি হয়েছে সেজন্য তাদের বদলি করেনি।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৫ টি চেক ষ্টেশন রয়েছে যার প্রতিটি থেকে মাসিক এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়। অত্র সার্কেলে প্রতিমাসে যে পরিমান জোত পারমিট ইস্যু হয় তার প্রতিঘনফুটে তাকে দিতে হয় ৫ টাকা যা আদায় করা হয় ডিএফও দের মাধ্যমে। সার্কেলের প্রতিটি রেঞ্জ ও বিট থেকে নির্ধারিত হারে মাসোয়ারা আদায়। সুফল প্রকল্পের বাগান, উন্নয়ন মূলক কাজ ও ক্রয় এর সকল কাজ থেকে শতকরা ৫ টাকা হারে আদায়।

সরকারি অর্থের অপচয় করে সরকারি গাড়ি নিয়ে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত তার নিজ গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা তালা থানাধীন বাগমারা গ্রামে আসা যাওয়া। বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে বাজেট যা থাকুক না কেন সব তার সরকারী বাংলোতে খরচ করা। বাংলোটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত সংগ্রহশালা যা ভেঙ্গে তার নিজের মত করে করা। বাজেট না পেয়েও অগ্রিম কাজ করে ফেলা।

ড. মোল্ল্যা রেজাউল করিম, বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চল এর রয়েছে একটি চাঁদাবাজ বাহিনী। যার মূল দায়িত্ব পালন করেন মোল্ল্যা রেজাউলের পূর্ব কর্মস্থল ফরেস্ট একাডেমীর ফরেস্টার আব্দুল হামিদ অন্যান্যরা হলেন চট্টগ্রম উত্তর বন বিভাগের এসিএফ জয়নাল ফরেস্টার সাদেক, আনিস ও ফরেস্ট গার্ড অসিম, কায়সার চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেস্টার মামুন, এমদাদ ফরেস্ট গার্ড গাজী নুর ইসলাম উপকূলীয় বন বিভাগের ফরেস্টার রাশেদ ও নিজাম বন ব্যাবহারিক এর ফরেস্টার অভিজিত ফরেস্ট গার্ড জাহাঙ্গীর বান্দরবান পার্বত্য এলাকায় ফরেস্টার জুয়েল ও আতা এলাহী ফরেস্ট গার্ড নাছির কক্সবাজার এলাকার জন্য মনিরুজ্জামান এবং আতিক ফরেস্টার দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখিত চাঁদাবাজ বাহিনীর সদস্যরা সমস্ত সার্কেলের চদার টাকা আদায় করে চট্টগ্রাম শহরের পাশে বালুচরা আব্দুল হামিদ এর বাসায় পৌছে দেয়, আব্দুল হামিদ উক্ত চাঁদার টাকা মোল্ল্য রেজাউলের আত্মীয় স্বজনের বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন বলেও উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

সর্বোপরি দীর্ঘ ২২ বছর চাকরীজীবনে প্রতিটি কর্মস্থলেই সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্ণীতির মাধ্যমে উত্থাপিত অর্থ ব্যায়ে রাজধানীর লালমাটিয়ায় ৭ কোটি টাকা দিয়ে ২টি ফ্ল্যাট ক্রয় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস। বর্তমানে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর বাড়ির পাশে ধানমন্ডিতে ৫ কোটি টাকা দিয়ে তার স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট ক্রয় সহ গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরার তালা থানাধীন বাগমারা গ্রামে তার বাবার নামে আমবাগান সহ ২০ বিঘা জমি ক্রয়ের অভিযোগ সমূহ উল্লেখযোগ্য।

ড. মোল্ল্যা রেজাউল করিম, বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চল বর্তমানে নব্য জামাত পরিচয় দানকারী, পূর্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রীতি সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা প্রবন্ধ লিখতেন, সোস্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন বক্তিতায় আওয়ামীলীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।