গণপূর্তের আনোয়ার হোসেন -গার্ড, এমএলএসএস না ক্যাশ সরকার
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিধি-বিধান অপেক্ষা করে,নিরাপত্তা প্রহরী থেকে এমএলএসএস, এমএলএসএস থেকে ক্যাশ সরকার হয়েছেন গণপূর্তের আনোয়ার হোসেন।
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিধি-বিধান অপেক্ষা করে,নিরাপত্তা প্রহরী থেকে এমএলএসএস, এমএলএসএস থেকে ক্যাশ সরকার হয়েছেন গণপূর্তের আনোয়ার হোসেন। মসজিদের নামে চাঁদাবাজি, কর্মচারীদের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১০মার্চ ২০২৪ইং তারিখ বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন বি ২০০৫ এর সভাপতি মোঃ রেজউল করিম রেজা/ মোঃ রেজাউল ইসলাম , মহা- সচিব মোঃ এনামুল হকসহ ৯জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর বরাবর দায়ের করে। অভিযোগে উঠে আসে,আনোয়ার হোসেন ১জুন ১৯৯৫ তারিখ গার্ড পদে গণপূর্ত বিভাগ ৩ যোগদান করে । ১জুন ২০০১ তারিখ বিনা নোটিশ বা প্রজ্ঞাপনে এমএলএসএস পদ ধারণ করে।তিনি কিভাবে গার্ড হতে এমএলএসএস পদে পদোন্নতি পেলেন এ বিষয়ে তার চাকরি বহিতে কোন নির্দেশনা নেই । গত ১৫জুন ২০১০তারিখ এমএলএসএস থেকে পদোন্নতি পেয়ে হলেন ক্যাশ সরকার।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অমান্য করে, সে কিভাবে কোন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পদোন্নতি পেল তা আজও কারো জানা নেই। গণপূর্তের খালি জায়গায় ঘর উঠিয়ে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে প্রায় ৬১,৬৯৮৭৮টাকা আত্মসাত করেছেন এই আনোয়ার হোসেন। উক্ত বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি কমিটি গঠিত হয় এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে ২৮ডিসেম্বর২০২২ইং তারিখ প্রধান প্রকৌশলী দপ্তর সংস্থাপন ৩ শাখা উক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করেন, যার স্মারক নম্বর ০৩/১৩/১১৭৫। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তর আজও তার টাকা আদায় করতে পারেননি৷
তেজগাঁও জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য গণপূর্তের আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে।ক্ষমতার জোরে অবৈধভাবে কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা বনে যায় এই আনোয়ার হোসেন। নেতৃত্বে আসার পর শুরু হয় কর্মচারীদের উপর আনোয়ারের চাঁদাবাজি। বাসা বরাদ্দের নামে ওমর হোসেন সহ বিভিন্ন কর্মচারীর কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আনোয়ার। আনোয়ার হোসেন মামলাবাজ হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি এবং সুনাম রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে। একাধিক প্রমাণ সূত্র জানা যায়, তাকে কোথাও বদলি করলে কিছু অসাধু কর্মকর্তার সান্নিধ্যে থেকে সেই বদলি বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন আনোয়ার।
ক্ষমতায় কাজ না হলে তিনি মামলা করে তা স্থগিত করে দেন যার যথেষ্ট প্রমাণ সংরক্ষিত। প্রতারণা করে চাকরিতে পদোন্নতি নেওয়া, অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা সহ বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, প্রমাণও হয়েছে, কিন্তু তার শাস্তি অদ্যাবধি দৃশ্যমান নয়। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এবিষয়ে অভিযোগকারীর একজন ওমর হোসেন জানায,আমাদের দেওয়া অভিযোগটি সত্য।
আনোয়ার হোসেন আমার কাছ থেকে১,৪০,০০০/ টাকা বাসা বরাদ্দের নামে ঘুষ নিয়েছিল, বাসাও পাইনি, টাকাও পায়নি। অভিযোগের ব্যাপারে এনামুল হক (মহাসচিব বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন বি ২০০৫) জানায়,অভিযোগটি সত্য, আমরা এর সঠিক বিচার প্রার্থনা করছি। মোঃ রেজাউল ইসলাম /রেজাউল করিম রেজা সভাপতি বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদফতর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন বি২০০৫ জানায়, অভিযোগ সত্য, আমরা দিয়েছি। তবে আমার নামে ভুল করে রেজাউল ইসলাম লিখেছে হবে রেজাউল করিম রেজা।