কাস্টমসের সহকারি রেভিনিউ অফিসার তারেক আজিজ এর বিরুদ্ধে অবৈধ ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ
মোঃ তারেক আজিজ সহকারী রেভিনিউ অফিসার
মোঃ তারেক আজিজ সহকারী রেভিনিউ অফিসার (কাস্টম ইন্সপেক্টর)’র বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কে হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহণ, তার বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে মতিঝিল এলাকায় চাঁদা আদায়, চিত্ত বিনোদন এর জন্য নামকরা হোটেলের রুম বুকিং করে আনন্দ বিনোদন, জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য লাক্সারিয়াস গাড়ি ব্যবহার সহ উঠে এসেছে নানা অভিযোগ।
তথ্যসূত্রে উঠে আসে, মেসাস খোরশেদ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক মোঃ খোরশেদ আলম তাপসকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন তারেক আজিজ। খোরশেদ আলম একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৩ লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার সহযোগী পিয়ন এবং ড্রাইভারকে দিয়ে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন খোরশেদ আলম তাপস কে। উপায়ান্তর না দেখে ১ লক্ষ ৪০হাজর টাকা তারেক আজিজকে ঘুষ প্রদান করেন মোঃ খোরশেদ আলম তাপস। উক্ত টাকা তারেক আজিজ বিকাশ এবং নগদে গ্রহণ করেন।
১৯নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ তারেক আজিজ ০১৯১১৯১০৫৫৫ বিকাশ নাম্বারে ৯০০ টাকা, একই তারিখে আবার ১১০০ টাকা উক্ত নাম্বারে, একই দিনে বিকেল আনুমানিক ৪/৫ টার দিকে হোটেল রাহমানিতে তারেক আজিজ খোরশেদ আলমকে ডেকে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আরো ১৮,০০০/ টাকা আদায় করেন। ২১ নভেম্বর ২০২৩ তারেক আজিজের ড্রাইভার সজীবের বিকাশ নাম্বারে২০ হাজার টাকা পাঠাতে বল্লে খোরশেদ আলম তা পাঠিয়ে দেন। ২৯/১১/২০২৩ ইং তারিখ ৬০০০টাকা বিকাশ নাম্বারে, ৩০/১১/২০২৩ ৫০, হাজার নগদে তারিক আজিজের হাতে প্রদান করেন খোরশেদ আলম। ৩০/১১/২০২৩ একইদিনে মামলা হয়ে গেছে তা থেকে বাচতে হলে উপরস্থ অফিসারদের আরো ৩০,০০০/ টাকা দিতে হবে জানায় তারেক আজিজ।
বেচারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোঃ খোরশেদ আলম তাও পরিশোধ করেন তারেক আজিজ কে। অথচ এ তারেক আজিজ গত ০৪/১০/২০২৩ ইং তারিখ মামলা রুজু করেন খোরশেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ খোরশেদ আলম তাপসের বিরুদ্ধে, মামলা নম্বর ২৩৪ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট মতিঝিল বিভাগ ঢাকা। তথ্যে আরো উঠে আসে মতিঝিলের হোটেল রহমানিয়া রুম নম্বর ১৯০১ ছিলো তারিক আজিজের অবৈধ লেনদেনের একমাত্র অভয়ারণ্য। সর্বদাই একটি গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি এবং সাথে থাকতেন তিন থেকে চারজন দেহরক্ষী। গত ১৬/এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখ চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বরাবর এক আবেদনে উপরোক্ত বিষয়টি উপস্থাপন করেন খোরশেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ খোরশেদ আলম তাপস।
সরেজমিনে মোঃ খোরশেদ আলম তাপসের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগে আমি যা লিখেছি তার সম্পূর্ণ সত্য এবং বাস্তব ঘটনা। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এর বিচার প্রার্থনা করছি। তারিক আজিজের ব্যক্তিগত পিয়ন রাকিবের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় ঘুষ বা দুর্নীতির ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা, তবে হোটেল রহমানিয়াতে তারেক আজিজ স্যার প্রায়ই আমাকে ডেকে নিতেন এবং অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র সেখানেই স্বাক্ষর করতেন। উক্ত বিষয়ে তারিক আজিজের কাছে জানতে চাইলে মুঠো ফোনে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।