বিএমইটিতে বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদানের নামে চলছে হরিলুট
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি)তে চলছে হরিলুট।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি)তে চলছে হরিলুট। ইতোপূর্বকার সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে “আমি প্রবাসী” নামক এ্যাপ’র মাধ্যমে বহি:গমন ছাড়পত্র পদ্ধতি চালু করায় সীমাহীন দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে রিক্রটিং এজেন্সি সমূহের মালিকসহ বিদেশ অভিভাষণ প্রত্যাশীরা।
এ্যাপসের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আদায় করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইতোপূর্বে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বহি:গমন ছাড়পত্র প্রদানের বিধান থাকলেও বর্তমান মহাপরিচালক যোগদানের পর (বাংলা ট্রাক গ্রুপের পরিচালক) “আমি প্রবাসী” নামক এ্যাপের মাধ্যেমে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে ছাড়পত্র পেতে হলে সব কিছু ঠিক থাকার পরও জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে আদায় করা হচ্ছে। যারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে তাদের ছাড়পত্র ১৫/২০ দিনেও হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন তালবাহানা করে সার্ভারে সমস্যা করে রেখে দেয়া হচ্ছে। “আমি প্রবাসী” নামক অ্যাপ এর কন্ট্রোল ও একটি সিন্ডিকেটের হাতে।
সূত্র মতে একটি বেসরকারি এ্যাপ খুলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং বিদেশ অভিবাসন প্রত্যাশিত যেসব পুরুষকর্মী তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন টিটিসি থেকে কিন্তু টিটিসির সনদ গ্রহণকালে আমি প্রবাসী অ্যাপ এর মাধ্যমে জন প্রতি ১২০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করে সনদ তুলতে হয়। এখানে ট্রেনিং সেন্টার বা বাংলাদেশ সরকারের কোন লাভ নেই এবং মহিলা কর্মীদের থেকে স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ সনদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা আমি প্রবাসী এর ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে যাতে বাংলাদেশ সরকারের কোন অংশ নেই এবং বহি:গমন ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৭০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন। এতে সরকারের কোন অংশ নেই।
ডিজি এর রুমের ভিতরে এবং ডিজি রুমের বাহিরে পি.এ রুমের পাশের রুমে ৩/৪ সিন্ডিকেটের সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ ও টাকা গ্রহণকারী দালাল প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে, এবং সরকারি চালান ও পে অর্ডারের কোন হদিস থাকছে না। ভুক্তভোগীরা পূর্বের পদ্ধতিতে বহি:গমন চালু এবং ঘুষ বিহীন জনশক্তি চাই। তারা দেশের গরীব অসহায় নিরীহ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে সহযোগিতা চেয়ে প্রধান মন্ত্রিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং অবিলম্বে এ্যাপ বন্ধ করে মেনুয়াল পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের রেমিটেন্স ব্যবস্থা চিরতরে ধসে পড়বে এবং লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে বেকার সমস্যার সম্মুখীন যা সরকারের কাছে বোঝা স্বরূপ হয়ে দাড়াবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।