বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পর্যায়ে সাম্প্রতিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

অন্তবর্তী সরকার আমলে প্রত্যেকটি দপ্তরে সংস্কার করার কথা থাকলেও বন বিভাগে ন্যূনতম কোন সংস্কার হয়নি।

বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পর্যায়ে সাম্প্রতিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

অন্তবর্তী সরকার আমলে প্রত্যেকটি দপ্তরে সংস্কার করার কথা থাকলেও বন বিভাগে ন্যূনতম কোন সংস্কার হয়নি। বিগত সরকারের বন মন্ত্রীদের সার্বিক দুর্নীতিতে সহযোগিতাকারী সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তারা লীগ সরকারের আশীর্বাদ পুষ্ট দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে রয়েছেন এখনো সচেষ্ট। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে ও তারা বাইপাস করে চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি লুটপাট।

গত ৮/১০/২০২৪ তারিখে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পর্যায়ের ২১ কর্মকর্তাকে বদলী নিয়োগ করা হয়। এই বদলী নিয়োগ আদেশ কে কেন্দ্র করে বিসিএস (বন) ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিগত লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের পুনরায় লোভনীয় পদে নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিং পোস্টিংয়ে থাকা নিয়োগ বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই বদলী নিয়োগের পিছনে  কোটি কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন। তারা এই অবৈধ নিয়োগ বদলী আদেশ পুন: বিবেচনা করতে মাননীয় উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দূর্ণীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত বিতর্কিত ও অকর্মন্য কর্মকর্তা ও রয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন কে পদায়ন করা হয়েছে লোভনীয় টাঙ্গাইল বন বিভাগে। যিনি দীর্ঘ ৪ বছর সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে কর্মরত থেকে বেপরোয়া দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক বন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারকে তিনি ধর্ম মা ডেকে লুটপাট, দুর্নীতি, বন উজাড়, আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, প্রকল্প কাজে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দায়িত্বের পাশাপাশি ৪টি প্রকল্প তথা সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রকল্প, বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প, সুন্দরবনে টেলিযোগাযোগ পুন: স্থাপন প্রকল্প, শেখ রাসেল ইকোপার্ক প্রকল্প সমূহের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে চালিয়েছেন লুটপাট। ভুয়া ভাউচার, নিজস্ব লোককে টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে প্রতিটি প্রকল্পে যে টাকা ভুয়া ভাউচারে খরচা দেখিয়েছেন তার সিংহভাগই এই কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন। যা এই প্রকল্পে ৪টির কার্যক্রমের উপর সরেজমিন অনুসন্ধান চালালে প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন অধ:স্থন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপরেও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় তার বাড়ী। আবার নিয়োগ পেলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগে। অপরদিকে টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডিএফও মো: সাজ্জাদুজামান নিজেকে শেখ সেলিমের লোক ও গোপালগঞ্জ বাড়ী পরিচয় গত ৩ বছরে টাঙ্গাইল বন বিভাগে চালিয়েছেন লুটপাট। তাকে আবারো পদায়ন করা হয়েছে লোভনীয় কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগে। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. এম এ আওয়ালকে দুর্ণীতি ও অপকর্মের অভিযোগে মাত্র ৬ মাস আগে প্রত্যাহার করে বন অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এই আদেশে তাকে লোভনীয় ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নির্মল কুমার পাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ খুলনা তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রকল্পে অফিস ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার দরপত্র গ্রহনের বিষয়ে পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামীলীগ সরকারের দোসরদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করেন। যা তদন্ত করার জন্য গত ২৬/০৯/২০২৪ ইং তারিখে মিহির কুমার দো, বন সংরক্ষক, খুলনা সার্কেলকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন প্রধান বন সংরক্ষক। কিন্তু রহস্যজনক কারনে বন সংরক্ষক তদন্ত কর্মকর্তা মিহির কুমার দো, নির্মল কুমার পালের দুর্নীতির বিষয় দীর্ঘ দিনেও কোন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন নি। নির্মল কুমার পাল তার ভাই যুগ্ম সচিব নিমাই কুমার পাল ও শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একই বন বিভাগে অবৈধ ভাবে দীর্ঘ ১১ বছর বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন।

বাস্তবে  দেখা যায় যে নির্মল কুমার পালের দুর্নীতির বিষয় ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে (সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে)। প্রকাশ থাকে যে নির্মল ১টি দরপত্রে অনিয়ম সংগঠিত করেছেন তাহলে তিনি ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন।

শারমিন আক্তার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ ঢাকাতে চাকুরী করার সময় বিতর্কিত সরকারি জায়গা জমি বেহাত করার কার্যক্রম করনের ফলে মন্ত্রণালয় তাকে গত এপ্রিল মাসে অন্যত্র বদলী করেন। প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় শারমিন আক্তারকে মাত্র ৬ মাস পরে পুণরায় একই বন বিভাগে বদলী করা হয়েছে। এস এম সাজ্জাদ হোসেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ঢাকা বন বিভাগে চাকুরীকালীন সময় বিতর্কিত সরকারি জায়গা জমি বেহাত করার ফলে তাকে এপ্রিল মাসে রাজশাহী স্কুলে বদলী করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় ডিএফও সাজ্জাদকে পুনরায় ৬ মাসের মাথায় লোভনীয় রাঙামাটি দক্ষিন বন বিভাগে বদলী করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে এই সাজ্জাদ হোসেনকে ২ বছরে ৫ম বারের মত বদলী করা হয়েছে যেমন- সিলেট বন বিভাগ থেকে সামাজিক বন বিভাগ বাগেরহাট, এবং সাামজিক বন বিভাগ বাগেরহাট থেকে বন ব্যবহারিক বিভাগ চট্ট্রগ্রাম এবং বন ব্যবহারিক বিভাগ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বন বিভাগ এবং ঢাকা বন বিভাগ থেকে রাজশাহী স্কুলে  রহস্য জনক বদলীর কারন কি? কবির হোসেন পাটোয়ারী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বর্তমান কর্মস্থল চট্টগ্রাম বন একাডেমি থেকে বদলী করা হয়েছে সামাজিক বন বিভাগ বরিশালে। কবির  হোসেন পাটোয়ারী ডিএফও কে পূর্বে সামাজিক বন বিভাগ পাবনা ও সামাজিক বন বিভাগ ফরিদপুর হইতে বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে তাহাকে প্রত্যাহার করা হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সংযুক্ত বন সংরক্ষক কার্যালয়, কেন্দ্রীয় অঞ্চল মহাখালী ঢাকা। তিনি একজন অকর্মন্য কর্মকর্তা বলে আলোচনায় আছেন তাকে পুরস্কার স্বরুপ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা লামা বন বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বে সহকারী বন সংরক্ষক রাঙামাটি দক্ষিন বন বিভাগে দীর্ঘ দিন চাকুরী করা কালীন ভুয়া জোত প্রদানের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ ঘনফুট কাঠ পাচারে সহযোগিতা  করে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মোঃ মারুফ হোসেন সহকারী বন সংরক্ষক চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ। মারুফ হোসেন একজন সর্বকনিষ্ট এসিএফ হবার পরেও তাকে লোভনীয় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সূত্রে আরও জানা যায় যে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ১৩/১৪টি পদ শুন্য থাকার পরেও পদোন্নতিযোগ্য সহকারী বন সংরক্ষক (ক্যাডারদের) পদোন্নতি দেয়া হয় নি এবং এ তালিকায় আরও ৫/৬ জন অপেক্ষমান আছেন কিন্তু রহস্যজনক কারনে সিনিয়রদের পদোন্নতি না দিয়ে জুনিয়ার এসিএফদের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বানানো হয়েছে।