গণপূর্তে শোকের মাসেও বদলী বাণিজ্য
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলী শোকের মাসেও বদলী বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলী শোকের মাসেও বদলী বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আর এই বদলী বাণিজ্যের মুল কলকাঠি নেড়েছেন ঢাকা মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নাছিম খান।
সম্প্রতি তাকে সংস্থাপন ও সমন্বয় থেকে ঢাকা মেট্রো জোনে বদলী করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু এলপিআর এ যাওয়ার ৮ দিন আগেই মো. নাছিম খানকে মেট্রোজোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) মো. নাছিম খান বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের ঘনিষ্ট হওয়ায় মেট্রোজোনের পদ শূন্য হওয়ার অনেক আগেই নাছিম খানকে ঐ পদে বদলীর প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়।
গণপূর্তের বদলী বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত এক নির্বাহী প্রকৌশলী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি ঐ পদে বদলী হয়েছেন। আর এই বদলীর খরচ তোলার জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) মো. নাছিম খান শোকের মাস আগষ্টে প্রায় ৩০ জন নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে বদলীর ব্যবস্থা করিয়ে দেন প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে। এর মধ্যে একজন উপ-সহকারি প্রকৌশলীর পদোন্নতির প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর পর পদোন্নতি হওয়ার আগেই তার কর্মস্থলে অন্য একজন কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়েছে।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে,গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ডান হাত হিসাবে পরিচিত অতি: প্রধান প্রকৌশলী মো: নাছিম খান। তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) থাকাকালে গত ১লা আগষ্ট ২০২২ তারিখে ৮৩৪ নং স্মারকে এক আদেশেই ১৫ জন সহকারী প্রকৌশলীকে দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলী আদেশ জারি করেন। অপরদিকে গত ১০ এবং ১৬ আগষ্ট আরো কয়েকজন প্রকৌশলীকে বদলী করেন। এসব বদলী আদেশ দিতে ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়া হয়েছে মর্মে গুঞ্জন চলছে।
জাতির জনক হত্যার এই শোকাবহ মাসে কেন এই বদলী ? এমন প্রশ্নের কোন জবাব মেলেনি দুই প্রকৌশলীর কাছ থেকে। তারা বলেন, এটা অধিদপ্তরের রুটিন ওয়ার্ক। কিন্তু গণপূর্তের অধিকাংশ প্রকৌশলী বলেন, এমন নজির এর আগে কোন দিন দেখা যায়নি।
সুত্রগুলো আরো জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্র্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদটি একটি লোভনীয় পদ। আর এ পদে আসার জন্যই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: নাছিম খান এই বদলী বাণিজ্যে লিপ্ত হন। এ জন্য তিনি ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন মর্মে কানাঘুষা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতি: প্রধান প্রকৌশলী মো: নাছিম খান জানান, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশেই বদলীগুলো করা হয়েছে। এখানে কোন টাকা পয়সা লেন দেন হয়নি।