গডফাদার ও টাকা পাচারকারীদের জননী শেখ হাসিনা : রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘গডফাদার ও টাকা পাচারকারীদের জননী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘গডফাদার ও টাকা পাচারকারীদের জননী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ শনিবার (৫ অক্টোবর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সদ্য কারামুক্ত বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান রিজভী। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য রহমান অমিত, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শরাফত আলী সপু,গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমসহ ৫ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গতকাল একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপালগঞ্জের একজন ছাত্রলীগ নেতার। ছাত্রলীগ নেতা বলছেন, ‘আপা পুলিশ হানা দেয় প্রতিদিন পাঁচ-ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।’ আপনি কি জানতেন না? আপনি পালিয়ে যাওয়ার পর মাত্র এক মাসও হয়নি স্বেচ্ছাসেবক দলের দিদারকে গোপালগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এরপরও পুলিশ তাদেরকে পূজা করবে? তাদেরকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানাবে। বর্বর, নিষ্ঠুর, রক্ত পান করা ছাড়া অন্য কোনো বিবেক আপনার (শেখ হাসিনা) নেই, মানবতা নেই, সেটা আবার প্রমাণ করলেন ছাত্রলীগনেতার সঙ্গে কথোপকথনে। অথচ আপনি বলতে পারতেন; ওইখানে হত্যাকাণ্ড হলো কেন? ওইখানে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মারা গেল কেন? বলেননি। কারণ আপনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জননী, গডফাদারদের জননী, টাকা পাচারকারীদের জননী। এই কারণেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বাইরে যে গণতন্ত্রের জন্য কথা বলেছে, তাকে খুন-গুম-হত্যা করতে, তাদেরকে আয়নাঘরে আটকে রাখতে আপনার মনে এতটুকু বিবেকবোধ কাজ করেনা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আপনি (শেখ হাসিনা) উসকানি দিচ্ছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে যেভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগকে দিয়েছেন, একই কায়দা উসকানি দিয়ে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে একটা রক্তাক্ত বাংলাদেশের আবহ তৈরি করে আপনি মনে করেছেন, সেই সুযোগে বাংলোদেশে প্রবেশ করবেন। তা এই দেশের মানুষ হতে দেবে না।’
রিজভী বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি। আপনারা জানেন, মিথ্যা মামলায় বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; গ্রেপ্তার করে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে ৭০ বছর। একটা অনাচারমূলক রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত; শেখ হাসিনা যে মাফিয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, সেখানে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ৭০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ হাবিবুল ইসলাম হাবিব নাকি শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা করেছিল। আমরা সেদিনের ঘটনা জানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঢাকায় অবস্থান করছিল। আমাদের একটি প্রোগ্রাম ছিল ঢাকায়, অথচ তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিকল্পিত মামলা সাজিয়ে এ রায়টি দেওয়া হয়। হাবিবুল ইসলাম হাবিব ৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের একজন তেজস্বী নেতা। সে ডাকসুর মিলনায়তন বিষয়ক সম্পাদক ছিল। এরপর সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি এবং নির্বাচিত এমপি; তার মতো একজন অপেক্ষকৃত সাহসী তারুণ্যদ্বীপ্ত নেতাকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকে যদি ধ্বংস করা যায়, হাসিনা অত্যন্ত আনন্দ লাভ করেন, তার ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়।